100 দিনের কাজে বহু কাজ করার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু হচ্ছে না


বিভিন্ন সংবাদপত্রের মহাত্মা গান্ধি জাতীয় গ্রামীন রোজগার যোজনায় পশ্চিম বর্ধমান জেলা ৪৩.৪৩ শতাংশ কাজ করে এক থেকে ১০ নম্বর জেলার মধ্যে স্থান পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে সাধারণ ভাবে,এই প্রকল্পটিকে ১০০দিনের কাজের প্রকল্প  হিসাবে সাধারণ মানুষ জানে,এই প্রকল্প সাধারনত পুকুর কাটা,নিকাশি ব্যাবস্থা , অন্যান  কাজের জন্যে ব্যবহার করা হয়।কিন্তু বাস্তবে সালানপুর ব্লকের কোথাও কোনো পুকুর কাটা হয়েছে বলে এখন পর্যন্ত খবর নেই।অথচ এই ব্লকে ঘনবসতি পূর্ণ এলাকা রূপনারায়ানপুর,আছড়া, আল্লাডি, দেন্দুয়া,বাসুদেবপুর জেমারি এলাকায় অনেক বহুতল হাজার হাজার বাড়ি নির্মাণ হলেও দেখা যাচ্ছে বর্ষার জল ধরে রাখার মাটির নিচের জলস্তর রক্ষা করার প্রয়োজনে নতুন পুকুর তো কাটা হচ্ছেই না।বরং বহু পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে  
 বহু জায়গায় পুকুর থেকে জল বার করার জন্য বড় বড় নালা কাটা হচ্ছে,ওখানে বলা হচ্ছে ব্যাক্তি মালিকানার এই পুকুরগুলি থাকায় পুকুর কাটানো যাচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবে অন্য কথা বলে।জন সাধারণের প্রয়োজনে ব্যাক্তি মালিকানাধীন পুকুর গুলিও রাজ্য সরকারের রায়তি সম্পত্তি।সেক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে পুকুর কাটার জন্য পুকুর মালিকের অনুমতির প্রয়োজন নেই।তাছাড়া দেখা যাচ্ছে এই গ্রাম পাঞ্চায়েতগুলির অন্তর্গত বেশ কিছু কৃষি জমি যেখানে চাষ আবাদ হয় না সেখানে অল্প বৃষ্টিতেই ব্যাপক জল জমা হয়।এবং ওই জমা জল বছরের মধ্যে ৪থেকে৫মাস জমা থাকে।ওই জমা জলের কারণে সাধারণ মানুষ পড়েন বিপদে।  ওই এলাকাগুলি চিহ্নিত করে পুকুর কাটিয়ে দিলে জমা জলের জন্য সাধারণ মানুষের অসুবিধা যেমন কমবে ,অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর জলধরো জলভরো প্রকল্পও স্বার্থক হবে
 এছাড়া পুকুরগুলিতে মাছ চাষ হলে জমির মালিক লাভবান হবে।১০০ দিনের প্রকল্পে এই কাজ করা যেতেই পারে অন্যদিকে সালানপুর ব্লকে বেশ কয়েকটি জোড় আছে ওই জোড়গুলি বর্তমানে মাটিতে ভরে যাওয়ার জল নিকাশি ব্যাবস্থার বড় সমস্যা হচ্ছে।১০০দিনের কাজে জোড় গুলির মাটি কেটে জল যাওয়ার গতি মসৃন করা যায়,ঠিক তেমনি মাঝে মাঝে জোড় বাঁধিয়ে জলা ভুমিকে ভূমি স্তরের জল সংরক্ষণ মাছ চাষের মত অর্থ উপার্জনের একটি ভালো সুযোগ হতে পারে কিন্তু বাস্তবে পঞ্চায়েত স্তরে সরকারি কর্মী পঞ্চায়েত সদস্য কেউই সঠিক পরিকল্পনা করছেন না।১০০ দিনের কাজ একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে উপার্জনের রাস্তা দেখাবে অন্যদিকে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি করা হবে এই লক্ষেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।কিন্তু বাস্তবে সেটির মিল খুঁজে পাওয়া মুশকিল বিভিন্ন ভাবে অভিযোগ উঠেছে যে বি পি এল কার্ডে নাম নেই।এরকম কিছু লোককে কম পয়সায় শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করে কিছু কাজ করানো হয়।পরবর্তী সময়ে যে সকল ব্যাক্তিরা কাজ করেন নি তাদের নামও ১০০ দিনের প্রকল্পে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। সরকার বলে ১০০ দিনের কর্মীদের পারিশ্রমিক (তালিকাভুক্ত)ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু বাস্তবে বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে যাদের টাকা ঢুকেছে তারা ১০০দিনের কোনো কাজ করেনি স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরের কিছু লোক কাজ না করা ব্যাক্তিদের কাছে টাকা ঢুকিয়ে কিছু টাকা হোল্ডার কে দিয়ে বাকি টাকা নিজের তুলে নিচ্ছে স্বাভাবিক ভাবেই ১০০দিনের কাজে প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে।
 

Post a Comment

0 Comments