গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর:-চিত্তরঞ্জন, রূপনারায়নপুর সহু আসানসোলের সর্বত্র হুহু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমিতর সংখ্যা।বহু মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সেল্ফ আইসোলেশনে যাওয়ার। অনেকেই চিকিত্সাধীন হাসপাতালে। তবে হাসাপাতালে ভর্তি হওয়ার তূলনায় বাড়িতে ডাক্তারের পরামর্শে রয়েছেন এমন রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে ক্রমশ।কারণ কোভিড-19 এর লক্ষণ দেখা দিলেও টেস্ট করার আগে পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায় না যে ওই ব্যক্তি আসলেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না। আবার যারা টেস্ট করার পর পজিটিভ বলে শনাক্ত হন তাদেরও আইসোলেশনে থাকতে হয়। যাতে করে তার কাছ থেকে পরিবারের অন্য কেউ বা অপরিচিত কারও মধ্যেও সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।
অনেকেই করোনা রোগীর সংস্পর্শে আসছেন, কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন কেউ হচ্ছেন না। আক্রান্ত হলেও প্রায়ক্ষেত্রে কোনও উপসর্গ দেখা যাচ্ছেনা। 17ও18 অগাস্ট চিত্তরঞ্জন রূপনারায়নপুরে 14 জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যেখানে বিধানসভা এলাকায় গত চব্বিশ ঘন্টায় মোট আক্রান্ত 25 জন। অর্থাৎ গোটা এলাকা করোনার দাপট বাড়ছে। অধিকংশ ক্ষেত্রেই হালকা কাশি ছাড়া কোনও উপসর্গ নেই।
(G S KHABAR, গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)
এদিকে আবার জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা আর মাথা ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন তাদের অনেকেই কোভিড টেস্ট করাচ্ছেন না। কারণ আমরা একদিন এসব জিনিসকে তেমন পাত্তা দিইনি। সবাই ছিল আমাদের চোখে সাধারণ জ্বর, কাশি, হাত পা ব্যথা। কিন্তু এখন বিষয়টি চিন্তার হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, পরীক্ষা হওয়া উচিত। নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ বা নেগেটিভ যাই আসুক না কেন করোনা সংক্রমণের এই সময়টাতে কারো মধ্যে কোভিডের মতো উপসর্গ থাকলে তার অবশ্যই আইসোলেশনে থাকা উচিত। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আইসোলেশনে থাকার বিকল্প নেই।
(G S KHABAR, গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)
চিকিৎসকরা বলছেন "কোভিডের উপসর্গ হিসেবে যদি কারও জ্বর থাকে তাহলে সেটি সেরে যাওয়ার পর, কোনও ধরণের ওষুধ সেবন ছাড়া যদি তিনি পরপর তিন দিন সুস্থ বোধ করেন, স্বাভাবিক থাকেন তাহলে ধরে নিতে হবে যে তিনি করোনামুক্ত। তার যদি অন্য কোন শারীরিক সমস্যা না থাকে তাহলে তিনি নিশ্চিত হতে পারেন।"
(G S KHABAR, গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, যদি তার শারীরিক অন্য কোন সমস্যা না থাকে তাকে 14 দিন পর করোনামুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।
এখন দেখা যাক আইসোলশনের রুটিন কেমন হওয়া উচিত
1. আইসোলেশনে থাকার সময় সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কী কী করবেন তার একটি রুটিন বা তালিকা তৈরি করুন এবং মেনে চলার চেষ্টা করুন।
খাওয়া, ঘুম, শরীর চর্চা, বিনোদন মূলক কাজ কখন কত সময় ধরে করবেন তার আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করা যেতে পারে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কোন কাজ যেটি এর আগে সময়ের অভাবে করতে পারেননি সেই কাজ আইসোলেশনের সময়টাতে করতে পারেন। যারা ব্যবসা বা চাকরির সাথে জড়িত তাদের এমনিতেও বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। তারা সেগুলো গুছিয়ে নিতে পারেন। বিভিন্ন ধরণের বিনোদনমূলক কাজ যেমন সিনেমা দেখা, বই পড়তে পাড়েন। চিকিৎসক রা বলছেন আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তির যিনি দেখা-শুনা করেন সেই ব্যক্তির সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এবং মাস্ক ব্যবহার করে যোগাযোগ করা, কথা-বার্তা বলা যেতে পারে।
2. করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ পেলে অনেকেই ঘাবড়ে যান। মনোবল হারিয়ে ফেলেন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, মনোবল না হারালে এবং মানসিকভাবে শক্ত থাকাই এসব লক্ষণ থেকে সেরে ওঠার প্রাথমিক শর্ত।
যারা কোভিডের উপসর্গে ভুগছে এবং হাসপাতালে যেতে হয়নি বরং বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন, তাহলে বুঝতে হবে যে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ তার মধ্যে মৃদু সংক্রমণ হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে যে সব উপসর্গদ দেখা যায় তা হল জ্বর, সারা গায়ে ব্যথা, বমি, পাতলা পায়খানা, স্বাদ ও গন্ধ না পাওয়া ইত্যাদি।
"এসময় মানসিকভাবে শক্ত থাকা বা মন ভাল থাকা মানে হচ্ছে স্ট্রেস হচ্ছে না, স্ট্রেস মানে হচ্ছে এটি শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকা মানে হচ্ছে সুস্থতার দিকে একটা পয়েন্ট এগিয়ে থাকা।"
স্বাস্থ্যে জটিলতা না থাকলেও মনোবল বেশি থাকলে সুস্থ হওয়ার হার বেশি। তাই কোভিড হলেই যে কেউ মারা যাবে সেটি চিন্তা না করে মনোবল দৃঢ় রাখতে হবে। চিত্তরঞ্জন হাসপাতালের একজন চিকিত্সক বলছেন আইসোলেশনে থাকার সময় কোভিড সংক্রান্ত খবর না দেখে বরং মন ভাল থাকে এমন সব অনুষ্ঠান দেখা উচিত টিভিতে।
3. চিকিৎসকরা বলছেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ঘুমের বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে আইসোলেশনের থাকার সময় একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে প্রতিদিন কমকরে 8 ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। সেই সাথে দুপুরে এক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেয়া যেতে পারে।
( G S KHABAR, গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)
তবে কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেকেরই শরীর অনেক সময় বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে তার বেশি ঘুমানোর দরকার হতে পারে।তবে আইসোলেশনে যেহেতু একটি ঘরের মধ্যেই বন্দী থাকতে হয় তাই বিশ্রাম নেওয়ার জন্য সারাক্ষণ যাতে বিছানাতেই থাকা না হয় সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
রাত দশটার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা ।অনেকে রাত জেগে সিনেমা দেখেন , এটা বন্ধ করতে হবে। চিকিৎসকরাদের মতে শরীরে হরমোনাল ব্যালেন্স রক্ষা করার জন্য রাতের ঘুমটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আইসোলেশনে থাকার সময় অনেকের মনে হয় ঘুমের মধ্যে শ্বাস কষ্ট হচ্ছে যার কারণে ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে , চিকিৎসকরা বলছেন যে, করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের কারণে অনেক সময় এমনটা মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে পরামর্শ হিসেবে যেকোনও এক দিকে বেশিক্ষণ শুয়ে থাকা যাবে না। বার বার ডানে-বামে কাত হয়ে শুতে হবে। মাঝে মাঝে উপুড় হয়েও শুয়ে থাকা ভাল। তবে কোভিডের উপসর্গ থাকলে চিৎ হয়ে শুয়ে না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।কারণ আমরা যখন চিৎ হয়ে ঘুমাই আমাদের শরীর রিল্যাক্স হয়ে যায়। ফলে আমাদের জিহ্বা এবং অন্যান্য মাংসপেশি কিছুটা পিছিয়ে যায়। যার কারণে শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্বাসকষ্টের মতো মনে হয় ও ঘুম ভেঙে যায়। যারা বয়স্ক এবং মেদবহুল দেহের অধিকারী তাদের ক্ষেত্রে এই জটিলতা দেখা দেয় এবং কোভিডের সময় সেটি আরো ভাল ভাবে বুঝতে পারে। এজন্য বার বার পাশ ফিরে ঘুমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন দেওয়া হচ্ছে।আইসোলেশনের জন্য এমন ঘরে নেওয়া উচিত যেখানে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস আছে এবং বাতাস আসা যাওয়ার ব্যবস্থা আছে। বদ্ধ ঘরে আইসোলেশনে যাওয়া ঠিক নয় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
(G S KHABAR, গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)
৪. কোভিডে আক্রান্ত হলে সব ধরণের স্বাভাবিক খাবার বেশি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এ সময় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে যাতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সবল হয়। অনেকেই বলছেন কোভিডের উপসর্গ থাকলে বেশি বেশি গরম জলপ , চা, সুপ খাওয়া উচিত।চিকিৎসকরা বলছেন
"গলা ব্যথা বা গলায় খুসখুস করলে, ভারী হয়ে থাকলে বা গলায় কিছু জমে আছে এমন অনুভূতি থাকলে গরম জল খেলে বা গরম জল দিয়ে গার্গল করলে আরাম বোধ হয়। সেটি করা যেতে পারে।" "তবে এটা মনে করার কোন কারণ নেই যে গরম পানি বা চা খেলেই কোভিড ভাল হয়ে যাবে। এ ধরণের কোন গবেষণা বা প্রমাণ নেই।করোনা ভাইরাসের উপসর্গ থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষরা ।
5. আইসোলেশনে থাকার সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে শরীর চর্চা করা যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে এ সময় ভারী কোন ব্যায়াম করা উচিত নয়।, চিকিৎসকদের মতে শারীরিক অবস্থার সাথে সঙ্গতি রেখে শরীরটাকে সচল রাখার জন্য হালকা ব্যায়াম করতে হবে। তবে যেহেতু এ সময় জ্বর থাকে তাই ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া ফুসফুসকে সুস্থ ও সবল রাখতে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করারও পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
6. রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আর সেটি মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছালে হাসপাতালে ভর্তি হতেই হবে । সেকারণে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণ ঠিক আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে
প্রয়োজন পালস অক্সিমিটার নামে একটি যন্ত্রের । সম্ভব হলে এই যন্ত্র সংগ্রহ করে অক্সিজেনের পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে। রক্তে অক্সিজেনের পরিমান 90 এর উপরে হলে তা স্বাভাবিক। এর নিচে একবার বা দুই বার নামতে পারে। কিন্তু এটা অব্যাহতভাবে 90 এর নিচে থাকলে বুঝতে হবে যে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেছে এবং তাকে তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পালস অক্সিমিটার ছাড়া রক্তে অক্সিজেনের পরিমান নির্ধারণ করা মুশকিল। তবে কিছু উপসর্গ খেয়াল করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে, শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, অনেক বেশি দুর্বলতা। তবে জ্বরের কারণেও অনেক সময় দুর্বলতা বাড়ে। তবে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেলে দুর্বলতা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
7. যেহেতু করোনাভাইরাসের এখনও কোনও ধরণের প্রতিষেধক বা ওষুধ নেই তাই এর চিকিৎসায় মূলত হয় উপসর্গ ভিত্তিক। যাদের জ্বর রয়েছে তাদেরকে জ্বরের ওষুধ দেওয়া যেতে পারে, কাশি থাকলে কাশির ওষুধ। জ্বর বেশি হলে এক সাথে দুটো ওষুধ খাওয়া যেতে পারে বলছেন চিকিৎসকরা।যাদের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন ডায়াবেটিক বা হাই প্রেসার রয়েছে, বয়স বেশি তাদের ক্ষেত্রে এ ধরণের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কতা নিতে হবে। চিকিৎসকরা বলছেন করোনাভাইরাসে জটিলতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রক্তে জমাট বেধে যাওয়া। সেক্ষেত্রে সেটি যাতে না হয় তার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনে ওষুধ খেতে হবে।(গ্রামাঞ্চল শিল্পাঞ্চলের খবর)


0 Comments